উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজারের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এখনো বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে, ফলে অনেক এলাকায় দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনু নদীর পানি আগের তুলনায় কমলেও এখনও বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকা এবং কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এসব ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার কারণে জেলার প্রায় ৪৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অসংখ্য বাড়িঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।
দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ চলছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ মানুষ অবস্থান করছেন। পাশাপাশি রাজনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ২ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনো পানি প্রবেশ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

