মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযান, ইরানকে ঘিরে বাড়তি নিষেধাজ্ঞা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.০২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড প্রায় ১.৪১ শতাংশ বেড়ে ৭৪.৫৬ ডলার এবং আবুধাবির মুরবান ক্রুড প্রায় ৬.৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩.৫৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও সামান্য বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩.২২ ডলারে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সামরিক পরিস্থিতির অবনতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন করে জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় কমে যাওয়াও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন আন্তর্জাতিক বাজারের নজর মূলত দুটি বিষয়ের দিকে। প্রথমটি হলো, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জবাবে ইরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়। দ্বিতীয়টি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল স্বাভাবিক থাকে কি না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য আরও কিছু সময় স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
