যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মূল্য দ্রুত কমানোর জন্য খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম দ্রুত কমিয়ে আনা উচিত। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিকভাবে বেশি মূল্য নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এমন কর্মকাণ্ড আইনসম্মত নয়।

তিনি বিক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ২.৫০ ডলারের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করতে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এর আগেও ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও সেই সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন না। এ কারণে বড় তেল কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়ে।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে, যা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। এর প্রভাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোলের দামও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে দায়ী করে চলেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version