আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া প্রতিক্রিয়া’ দেখানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

আইআরজিসির দাবি, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের হাতে রয়েছে। তাই এ নৌপথে চলাচলকারী সব জাহাজকে তেহরানের নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার মতো ঘটনার জবাবে কঠোর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থি হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে চলমান কূটনৈতিক ও সমন্বয় প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version