কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মিলেছে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা, সোনা-রূপার অলংকার এবং মানতকারীদের লেখা অসংখ্য চিঠি ও চিরকুট।

রোববার (২৮ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। পরে ৪৩টি বস্তায় ভরে টাকাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয় এবং চার শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণনা শুরু হয়।

রাত পৌনে ৯টার দিকে গণনা শেষ হলে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। পরে পুরো অর্থ রুপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী।

এবারের গণনায় দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা, সোনা-রূপার অলংকার এবং বিভিন্ন মানতের চিঠিও পাওয়া গেছে। বিদেশি মুদ্রা ও অলংকার ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ৩৫ বস্তা টাকা থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। জেলা প্রশাসক জানান, নতুন অর্থ জমা দেওয়ার আগেই মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা ছিল।

পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং রুপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ চার শতাধিক ব্যক্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নেন। পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা।

দানবাক্স ছাড়াও প্রতিদিন মানত হিসেবে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি দান করা হয়। এসব সামগ্রী উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।

মসজিদের দানের অর্থের লভ্যাংশ দিয়ে মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, আনসার সদস্যদের বেতন, অসচ্ছল ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এছাড়া দানের অর্থ দিয়ে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version