ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে।

শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বা এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে যদি তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হয়, তাহলে তার জবাব আরও কঠোর ও বিস্তৃত হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী ছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি-তে হামলার ঘটনাকে সাম্প্রতিক সমঝোতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এই ধরনের হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version