হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজারো নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে বহু জাহাজ ও নাবিক আটকে রয়েছেন। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি উদ্যোগ চলছিল। তবে নতুন হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও, এ ঘটনার জন্য এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান পাশে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজের নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো নাবিক হতাহত হননি এবং পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
নৌপথে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানায়, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার পর পারস্য উপসাগর থেকে ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজকে নিরাপদ এলাকায় নেওয়া সম্ভব হলেও সর্বশেষ হামলার কারণে বাকি অভিযান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রপথে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে না।
তিনি আরও জানান, ওমান উপসাগরেও একটি পৃথক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেটি আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের আওতায় ছিল না।
অন্যদিকে, ইরানের সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না। এমন জাহাজের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিক, অপারেটর ও ক্যাপ্টেনদের ওপরই বর্তাবে।
ঘটনার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
