আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রস্তাবিত ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করেছে, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা হয়েছে।
জামায়াতের প্রস্তাবনায় কী আছে?
দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী—
- ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: প্রথম বছরেই নতুন স্কেলের ১০০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর।
- ভাতা: দ্বিতীয় বছরে শতভাগ সমন্বয়ের প্রস্তাব।
- ১ম থেকে ৯ম গ্রেড: প্রথম বছর ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছর বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর।
- পূর্ণাঙ্গ ভাতা: তৃতীয় বছরে বাস্তবায়নের সুপারিশ।
সরকারের পরিকল্পনা
সরকারও নতুন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।
প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন ধাপ:
- ২০২৬-২৭ অর্থবছর: মূল বেতনের ৫০% বৃদ্ধি
- ২০২৭-২৮ অর্থবছর: অবশিষ্ট বেতন সমন্বয়
- ২০২৮-২৯ অর্থবছর: ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন
সম্ভাব্য বেতন কাঠামো
সরকারি সূত্র অনুযায়ী প্রস্তাবিত কাঠামোতে—
| গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন | প্রস্তাবিত মূল বেতন |
|---|---|---|
| ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা |
এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি
জামায়াতের প্রস্তাবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে—
- টিফিন ভাতা
- যাতায়াত ভাতা
- চিকিৎসা ভাতা
- শিক্ষা ভাতা
পুনর্নির্ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেতন বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বেতন কাঠামোয় বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হবে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
সরকার ও জামায়াত উভয় পক্ষই মনে করছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তাই একবারে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

