নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ইতালির স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দক্ষিণ ইতালির তিনটি শহরে তার সামাজিক ব্যবসা (Social Business) মডেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগের সূচনা করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন নেপলসভিত্তিক ফোকাস ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাচেল ফুরফারো, পরিচালক রেনাটো কোয়াগ্লিয়া, সিটি অব পিস ফর চিলড্রেন বাসিলিকাটা ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এনজো কারসিও, নির্বাহী পরিচালক ভ্যালেরিও জামবেরসিও এবং সিসিলির আঞ্চলিক পার্লামেন্ট সদস্য ও ইতালির সাবেক মন্ত্রী জানফ্রাঙ্কো মিচিকে।

উদ্যোগটির আওতায় নেপলস, পোটেঞ্জা ও পালের্মো শহরে নগর পুনরুজ্জীবন এবং টেকসই স্থানীয় উন্নয়নে প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনা থেকে উত্তরণের কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে প্রফেসর ইউনূস বলেন, “এই উদ্যোগটি সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে নগর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। শুরু থেকেই প্রকল্পটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে এটি একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য মডেল হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলেও প্রয়োগ করা যায়।”

জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর নেতৃত্ব দেবে জেনেরা কনসোর্টিয়াম। এতে ফোকাস ফাউন্ডেশন, সিটি অব পিস ফর চিলড্রেন বাসিলিকাটা ফাউন্ডেশন, এনার্গায়া এসআরএল এবং সামাজিক সমবায় প্রতিষ্ঠান ইল স্যালন দি রিফিউতাতি যৌথভাবে কাজ করবে।

প্রকল্পের কার্যক্রম প্রথমে পোটেঞ্জা শহরে শুরু হবে। পরবর্তীতে এটি নেপলসের ঐতিহাসিক কোয়ার্তিয়েরি স্পানিওলি এলাকা এবং পালের্মোর বাল্লারো জেলায় সম্প্রসারিত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও সামাজিক অর্থনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক উন্নয়ন মডেলকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণ ইতালির বিভিন্ন নগর এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত নগর পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা কাঠামো প্রয়োগের প্রথম সুসংগঠিত উদ্যোগ। পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত তিনটি শহরে সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যান্য শহরেও এ মডেল সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version