মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা এবং ইরানি বাহিনীর আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর প্রকাশের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও সি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও তখন থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চললেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে Fox News–এর ‘হ্যানিটি’ শোতে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন,
“আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।”

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন,
“আসলে জনসংযোগ ছাড়া এটি খুব প্রয়োজনীয় বলে মনে করি না। তবে এটি আমাদের হাতে থাকলে স্বস্তি বোধ করব।”

হরমুজে নতুন উত্তেজনা

এদিকে Strait of Hormuz–এ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফ্রিকা থেকে পশুবাহী একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ বুধবার ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায়। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল। ভারত এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং জানায়, জাহাজটির ১৪ জন ক্রুকে ওমান কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Vanguard জানিয়েছে, জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হয়ে থাকতে পারে। এতে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা United Kingdom Maritime Trade Operations জানিয়েছে, আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজে ‘অননুমোদিত ব্যক্তিরা’ উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।

চীনের অবস্থান

বেইজিং বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, Xi Jinping হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে এ নৌপথ ব্যবহারে কোনো ধরনের টোল আরোপেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—সে বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন সি চিন পিং। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না।

রাজনৈতিক চাপেও ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। এ কারণে যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহযোগিতা চাইছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় চীন ইরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবে না।

বেইজিং থেকে CNBC–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী Scott Bessent বলেন,
“হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চীন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি। এটি তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।”

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version