থাইল্যান্ডে দানবাকৃতির এক নতুন ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের দাবি, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর। নতুন এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে Nagatitan Chaiyaphumensis।

শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Al Jazeera জানায়, থাইল্যান্ডে খননকার্যের মাধ্যমে আবিষ্কৃত এই ডাইনোসরটি ছিল সোরোপড গোত্রের সদস্য। সোরোপডদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লম্বা গলা ও লেজ, ছোট মাথা এবং স্তম্ভের মতো চারটি শক্ত পা।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Scientific Reports–এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার এবং ওজন প্রায় ২৭ টন—যা প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান।

গবেষকদের ধারণা, প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে বর্তমান থাইল্যান্ড অঞ্চলে বিচরণ করত এই বিশাল তৃণভোজী প্রাণী। যদিও এখন পর্যন্ত এর মাথা ও দাঁতের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি, তবুও অন্যান্য সোরোপডের গঠন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।

গবেষণার প্রধান লেখক থিতিওয়ুত সেথাপানিচসাকুল জানান, নাগাটাইটান সম্ভবত বিপুল পরিমাণ গাছপালা খেত। এর খাদ্যতালিকায় কনিফারজাতীয় উদ্ভিদ ও সিড ফার্ন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই ডাইনোসরটি সত্যিই বিশাল। এর ওজন সম্ভবত ‘ডিপি দ্য ডিপ্লোডোকাস’-এর চেয়েও অন্তত ১০ টন বেশি ছিল।”

গবেষকরা নতুন আবিষ্কৃত এই সোরোপডকে “দ্য লাস্ট টাইটান” বা “শেষ দৈত্য” বলেও আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, এটি থাইল্যান্ডের এমন একটি শিলাস্তর থেকে পাওয়া গেছে, যা দেশটিতে ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কারের সবচেয়ে নবীন স্তরগুলোর একটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নাগাটাইটানরা ছিল সোরোপডদের একটি উপগোষ্ঠীর সদস্য, যাদের উৎপত্তি হয়েছিল প্রায় ১৪ কোটি বছর আগে। প্রায় ৯ কোটি বছর আগে তারা পৃথিবীতে টিকে থাকা একমাত্র সোরোপডে পরিণত হয় এবং প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর যুগের অবসান হওয়া পর্যন্ত টিকে ছিল।

এই বিশাল প্রাণীর প্রথম জীবাশ্মাবশেষ প্রায় এক দশক আগে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় লোকজন খুঁজে পান। পরে ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ খননকার্য সম্পন্ন হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version