
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে রক্ষা করতে ইরান তাদের কিছু সামরিক বিমান পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেয় এবং পাকিস্তান সেগুলোকে নীরবে আশ্রয় দেয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েকদিন পর ইরান কয়েকটি বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটিতে পাঠায়।
স্থানান্তরিত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি ‘RC-130’ গোয়েন্দা বিমানও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এটি মূলত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের বিশেষ সংস্করণ, যা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রক্ষার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেয় তেহরান।
প্রথমদিকে পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত নূর খান ঘাঁটিতে গোপনে বিমান লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে পরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইরানি বিমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পাকিস্তানের দাবি, এসব বিমান কোনো সামরিক জরুরি অবস্থার কারণে নয়, বরং যুদ্ধবিরতির সময় শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার সুবিধার্থে পাকিস্তানে এসেছে। বিমানগুলো কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা দলের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান আফগানিস্তানেও কিছু বেসামরিক বিমান পাঠিয়েছিল। তবে সেগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আফগান সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান কাবুলে অবতরণ করে এবং পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটিকে হেরাত বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
যদিও Zabihullah Mujahid আফগানিস্তানে কোনো ইরানি বিমানের উপস্থিতির তথ্য অস্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরান ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ইসলামাবাদ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
