
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাংলাদেশে প্রতি চার বছর পরই তৈরি হয় উৎসবের আবহ। প্রিয় দলের পতাকা, রাত জেগে খেলা দেখা আর বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এটি দেশের কোটি মানুষের আবেগের অংশ। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এবার বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সম্প্রচার নিয়ে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের এখনও কোনো সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা সম্প্রচারমাধ্যম। ফলে দেশের দর্শকরা টেলিভিশনে সরাসরি খেলা দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাওয়া অর্থের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। সম্প্রচারস্বত্ব, কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে স্থানীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশেষ করে ম্যাচের সময়সূচিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ বাংলাদেশ সময় গভীর রাত বা ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এমন সময়ে দর্শকসংখ্যা কম থাকলে বিজ্ঞাপন আয়ও কমে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন হতে পারে।
টি স্পোর্টসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে। সরকারও আপাতত বিপুল অর্থ ব্যয়ে সম্প্রচারস্বত্ব কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আরও কয়েকটি বড় বাজারেও। ভারত ও চীনের মতো দেশেও সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে আলোচনা জটিল অবস্থায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রচার ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন হিসাব-নিকাশ করে এগোচ্ছে।
ফলে এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগও। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারস্বত্ব কিনবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
