
কেরালার রাজনীতিতে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া। বামদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পেরামব্রা বিধানসভা আসনে জয় পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত করেন সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা রামকৃষ্ণনকে। প্রায় ৬৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তিনি প্রায় ৪,৭০০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে তাহলিয়া মুসলিম লীগের ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন, যা দলটির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোজিকোড জেলার পেরুভায়ালে জন্ম নেওয়া তাহলিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতি থেকে। তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট ফেডারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন এবং পরে কোজিকোড সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লীগের রাজ্য পর্যায়ের দায়িত্বে আছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী। কোজিকোড সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতক এবং ত্রিশুর সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বর্তমানে কালিকট জেলা আদালতে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন।
তবে তাঁর এই বিজয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি অনলাইন হয়রানি ও কটূক্তির মুখে পড়েন। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে তাঁর সক্ষমতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাহলিয়া যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেরালার রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বামপন্থিদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে এই ফলাফল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।