রাশিয়ার রাজধানী মস্কো-তে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসবে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী, বিদেশি অতিথি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো দূতাবাস প্রাঙ্গণকে সাজানো হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী উপকরণ দিয়ে, যা উপস্থিত সবার মাঝে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি করে।
এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা। প্রথমবারের মতো মস্কোর রাস্তায় অনুষ্ঠিত এই শোভাযাত্রায় রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রতীকী উপস্থাপনায় অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিরা। প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে শোভাযাত্রাটি উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে।
উৎসবে ছিল দেশীয় খাবার, মিষ্টি, পোশাক ও হস্তশিল্পের নানা স্টল। দর্শনার্থীরা পিঠা, পায়েস, বিরিয়ানি, চটপটি সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ উপভোগ করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় গান, নাচ ও বিভিন্ন পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাই একসঙ্গে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি পরিবেশন করেন। এছাড়া বাংলাদেশি ও রাশিয়ান শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত নৃত্য ও সংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি এই ঐতিহ্যকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে মস্কোতে প্রথমবারের মতো সপ্তাহব্যাপী একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের কাজ প্রদর্শিত হচ্ছে।

