মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরীর অন্তত ২০টি এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। মঙ্গলবারের এই পরিস্থিতিতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এবং অনেক জায়গায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ছিল প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুরসহ আরও বেশ কিছু এলাকা। কোথাও কয়েক ঘণ্টা ধরে পানি জমে থাকে, পরে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে।

এ পরিস্থিতি পরিদর্শনে বুধবার সন্ধ্যায় প্রবর্তক এলাকায় যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জলাবদ্ধতা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে পানি জমলেও দ্রুত তা নেমে গেছে। তার মতে, গণমাধ্যমে যেভাবে চট্টগ্রাম শহর পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন নয়। তিনি বলেন, নগরীর অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে তিনি হিজড়া খাল পুনর্নির্মাণ কাজের কথা উল্লেখ করেন। খালে নির্মাণাধীন স্টিল স্ট্রাকচারের কারণে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মে’র মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খালের ব্যারিকেড অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে এবং বর্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, জলাবদ্ধতা নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা এবং বর্তমানে অনেক মানুষ পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বারবার একই সমস্যায় ভুগছে চট্টগ্রাম নগরী। জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version