ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মেলোনির আচরণ তাকে বিস্মিত করেছে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি।

ইতালির একটি প্রভাবশালী দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে ইউরোপে নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনিকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন তিনি।

একসময় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানালেও সাম্প্রতিক সময়ে মেলোনির অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের পর তিনি কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখেন। সম্প্রতি তিনি ট্রাম্পের একটি মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যা ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করেছিল।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি মেলোনিকে যেভাবে দেখেছিলেন, বাস্তবে তিনি তেমন নন। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতা না করায় মেলোনির ভূমিকা নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ইতালির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ নিয়ে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মেলোনির প্রতি সমর্থন দেখা গেছে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতেই টিকে থাকতে হবে। তারা মেলোনির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন এবং তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ইতালির জনগণের অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অল্প কিছুদিন আগেও ট্রাম্প তাকে প্রশংসা করলেও এখন তাদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির চাপ—সব মিলিয়ে এই দ্বন্দ্ব আরও গভীর হতে পারে। ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মেলোনির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা তার কূটনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতি শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত মতবিরোধ নয়; বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের সংঘাতের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version