ওয়াশিংটনে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরুর ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথাগত কটাক্ষে সমালোচক জো বাইডেনকে ‘ঘুমকাতুরে জো’ বলে আক্রমণ করেন। এরপর তিনি গর্বিতভাবে দাবি করেন যে, ২৫ বছর আগের চেয়ে তিনি এখন ‘অনেক বেশি বিচক্ষণ এবং প্রাণবন্ত’। তবে নিজের ‘ঝরঝরে’ থাকার দাবি করার কিছু সময় পরই, মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি প্রকাশ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। এ ঘটনাটি তার পূর্বের বক্তব্যের পরিপন্থী হওয়ায় ব্যাপক উপহাসের সৃষ্টি করেছে।
সিএনএন–এর খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস ট্রাম্পকে নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদে কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। ট্রাম্প সেই রিপোর্টের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তিনি নাকি ২৫ বছর আগের চেয়েও এখন অনেক বেশি বিচক্ষণ ও প্রাণবন্ত। নিউইয়র্ক টাইমসকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ট্রাম্প ঝরঝরে, কিন্তু ওরা ঝরঝরে নয়।
নিজেকে ঝরঝরে এবং প্রাণবন্ত দাবি করার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পকে পরের দেড় ঘণ্টা ধরে সেই দাবির প্রমাণ দিতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে দেখা যায়। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি মধ্যদুপুরের ভাতঘুমের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও প্রায়শই হেরে যাওয়া লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মজার বিষয় হলো, যখন তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা ট্রাম্পের প্রশংসা করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তখনও তাকে বারবার চোখ বুজে ঘুমে ঢলে পড়তে দেখা যায়। বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক যখন ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রশংসা করে বলছিলেন, সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বকালের সেরা মন্ত্রিসভা, ঠিক তখনই ট্রাম্পের চোখ খোলা রাখতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার এবং কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিনসের কথা শোনার সময় তার চোখের পাতা আরও ধীরে নামতে থাকে।
শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন এবং স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবামন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের কথা বলার সময়, ট্রাম্পকে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে নিশ্চল থাকতে দেখা যায়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের ঠিক আগে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের চেষ্টার প্রশংসা করছিলেন, তখনো ট্রাম্প ঘুমে ঢুলছিলেন। রুবিওর ঠিক পাশেই বসা থাকায় এবং ক্যামেরা দুজনের ওপর জুম করা থাকায় এই দৃশ্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে এই দৃশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেন, ট্রাম্প মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন এবং পুরো তিন ঘণ্টার বিশাল মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করছিলেন।
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার ট্রাম্পকে এত স্পষ্ট করে ঘুমের সঙ্গে লড়তে দেখা গেল। এর আগের ঘটনাটি ছিল ৬ নভেম্বর, ওভাল অফিসে। একসময় যে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বাইডেনকে ঘুমকাতুরে বলে তিরস্কার করতেন, সেই ট্রাম্পই আজ নিজের তৈরি করা মানদণ্ডে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন।
২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের জলবায়ু সম্মেলনে বাইডেনকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখার পর ট্রাম্প এক ই–মেইলে বলেছিলেন, যে কেউ কোনো বিষয়ে সত্যি সত্যি উৎসাহী ও বিশ্বাসী হবে, সে কখনো ঘুমিয়ে পড়বে না!
