পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি বিজেপির আরও পাঁচজন বিধায়ককে সভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। এ সময় বিজেপি বিধায়কেরা লনে নেমে তুমুল স্লোগান শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই পুরো বিধানসভা চেহারা নেয় রণক্ষেত্রের মতো।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিধানসভার ভেতরে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে বিজেপির বিধায়কদের সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিজেপির ৫ বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগে, গত মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে বক্তব্য রাখার সময় রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিধানসভা থেকে বহিষ্কার করেন স্পিকার। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিলেন বিজেপির বিধায়কেরা।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন প্রতিবাদ জানান বিজেপির বিধায়কেরা। পাশাপাশি তৃণমূলের বিধায়কেরা বিজেপির বিধায়কদের ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, বিধানসভার স্পিকার প্রথমে বিজেপির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে সাসপেন্ড করেন। এরপরেই বিধানসভা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে এক এক করে আরও চারজন বিজেপির বিধায়ক মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, অগ্নিমিত্রা পল এবং বঙ্কিম ঘোষকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিধানসভার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা মার্শালের নেতৃত্বে নিরাপত্তারক্ষীরা টেনেহিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে বিজেপির বিধায়কদের বাইরে বের করে দেন।

এ বিষয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধানসভার মার্শাল এবং সুরক্ষা থাকায় সিকিউরিটিরা প্রত্যেকেই টিএমসির গুণ্ডা। আমাদের বিধায়কদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে এবং বিরোধীদলের চিফ হুইপ শংকর ঘোষ আহত হয়েছেন। মমতা ব্যানার্জীর ইশারায় এবং বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেই একটা বড় চোর।

সাসপেন্ডের পর বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বলেছেন, আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলাম, কেন বিরোধী দলনেতাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন বলেই কি তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে? এর প্রতিবাদ করার জন্য আজ আমাদের চিফ হুইপকে মারতে মারতে বিধানসভা থেকে বের করে দিয়েছে। আমাকেও ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।

বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ আহত অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি আছেন। তার মাথায় স্ক্যান করানো হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version