নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলে অবতরণের সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতের এক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের আরও এক নাগরিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নেপালের সোলুখুম্বু জেলার এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জেলার প্রধান কর্মকর্তা কামান সিং থাপা মাগার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, দুর্ঘটনায় আহত নিউজিল্যান্ডের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, অবতরণের মুহূর্তে হেলিকপ্টার দুটির রোটর বা ঘূর্ণায়মান পাখার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেগুলো বরফে ঢাকা ভূমিতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় জড়িত হেলিকপ্টার দুটি ফিশটেইল এয়ার ও ডাইনেস্টি এয়ার নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।
ফিশটেইল এয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের হেলিকপ্টারটি এভারেস্ট অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিল। অবতরণের সময়ই সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, ওই হেলিকপ্টারে থাকা ভারতীয় ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক পর্যটক ছিলেন।
অন্যদিকে ডাইনেস্টি এয়ারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের হেলিকপ্টারটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। সেটিতে শুধু পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল।
নেপালে পর্যটন ও পর্বতারোহণের ব্যস্ত মৌসুমে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে দেশটির বিভিন্ন পাহাড়ি গন্তব্যে পর্যটক, ট্রেকার ও পর্বতারোহীদের যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দুর্গম এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ এবং বিপদে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেও এসব উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সেখানে হেলিকপ্টার পরিচালনা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটির অবস্থান নেপালে। এ কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্বতারোহী ও পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে বাতাসের ঘনত্ব একটি বড় বিষয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, বাতাসের ঘনত্ব তত কমে যায়। এতে হেলিকপ্টারের রোটরের মাধ্যমে পর্যাপ্ত উত্তোলন শক্তি তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়।
এর কয়েক দিন আগেও ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বদ্রিনাথ থেকে উড্ডয়নের পরপরই সেটি বিধ্বস্ত হলে পাইলটসহ ছয়জন নিহত হন। ওই এলাকাটিও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে কম বায়ুঘনত্বের কারণে উড়োজাহাজ পরিচালনায় বাড়তি ঝুঁকি থাকে।
একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনায় নেপাল ও ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
