দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরির সঙ্গে জড়িতদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দাবিকে সমর্থন করে তাঁর দল। তবে নতুন মজুরি নির্ধারণের সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, কারখানার আর্থিক সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্পের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মালিকদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শ্রমিকদের প্রকৃত দাবিকে ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ অর্থায়ন কিংবা অন্য কোনো উপায়ে আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে কি না, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম।
আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ মূলত জনগণের সম্পদ। এসব ধ্বংস হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখা উচিত নয়। তবে যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, দেশের রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম জড়িত। তাই কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
ব্যারিস্টার শেখ মিনহাজুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পোশাকবাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। দেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে প্রতিযোগী দেশগুলো সুবিধা পেতে পারে। এ কারণে কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বাংলাদেশের শিল্প খাতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পোশাক কারখানার মালিক এবং শ্রমিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্দোলনে উসকানি দেওয়া, অর্থায়ন করা এবং নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।
শ্রমিকের অধিকার, শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ভাসানী জনশক্তি পার্টির এই নেতা।
