নাইট ডিউটির দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শাহানাজ পারভিন নামের ওই নার্স। অভিযুক্ত দুজন হলেন একই হাসপাতালের কর্মরত নার্স শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার।
গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে রাতের শিফটের ডিউটি তালিকা তৈরি করা নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন শিল্পী আক্তারের বোন লিপি বাড়ি থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে দুই বোন মিলে জরুরি বিভাগের কাছে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় শাহানাজের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিনের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ হতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের কারণে বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। হামলায় তাঁর চোখ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাঁদের বক্তব্য, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের উদ্দেশে কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্য করতেন। ঘটনার দিনও ডিউটির তালিকা নিয়ে অপমানজনক কথা বলায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
ঘটনার সময় হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, কর্মস্থলে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাও জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
