চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম। প্রকৃত ফলাফল প্রকাশের সাহস দেখানোয় বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় পত্রিকা ‘দৈনিক পঞ্চগড় খবর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারজিস।
তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার এইচএসসিতে পাসের হার কমেছে। পাসের হার প্রায় ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি, প্রায় ২৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এবারের ফলাফলই শিক্ষার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
সারজিস আলম আরও জানান, প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
এ সময় শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। সারজিসের দাবি, এ ধরনের গুঞ্জনকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তবে শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফেরার উদ্যোগ নিলে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানও বড় সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়েছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও পতনের পর কিছুদিন রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা গেলেও পরবর্তী নির্বাচনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। আওয়ামী লীগকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও পরিস্থিতির পরিণতি বুঝতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ক্ষোভ রয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেই সেই অসন্তোষের মাত্রা বোঝা যায়। ৫ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনা অবস্থান করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, ডিসেম্বরে দেশের কোথাও তার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা এবং সারজিস আলমের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
