বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর সম্মানজনকভাবে দাফন সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী। তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিএম কাদের।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে এক বিবৃতিতে জিএম কাদের জানান, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আগে থেকে খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। পরে তাঁর মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলো ব্যবহার করে নিজেরাই আবার কবর খনন করেন।
জিএম কাদেরের মতে, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির মরদেহের অসম্মান করা বা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের আচরণ ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
মানিক পশারীর কবর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদার এবং পুরো ঘটনায় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জিএম কাদের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
