তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী তিউনিসে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আয়োজিত এই বিক্ষোভে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক সংগঠন ইউজিটিটি, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা সরকারের নীতির সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেন।
মিছিলে পিপলস মুভমেন্ট, এন্নাহদা মুভমেন্ট ও ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ শেষে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিক ইউনিয়ন ইউজিটিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সালমি। তিনি বলেন, সরকার যদি আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে রাজপথ ও জনসমাগমের স্থানগুলোই মানুষের প্রতিবাদের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। দেশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সালমি অভিযোগ করেন, তিউনিসিয়ায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর মতে, কোনো একজন ব্যক্তির একক কর্তৃত্বে দেশ পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনির জেলাসিও দেশে নাগরিক স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, মতপ্রকাশের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বস্তির দাবিকে সামনে রেখেই তাঁরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
তিউনিসিয়ার এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও জীবনযাত্রার ব্যয়—এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বিক্ষোভের পর সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

