বর্ষার বিদায় এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উত্তরের কয়েকটি জেলায় ভোরের বাতাসে ইতিমধ্যে হালকা শীতের অনুভূতি দেখা দিতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাতেও উত্তরের বাতাসের প্রভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনই জেঁকে বসছে না শীত। এর জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কয়েক সপ্তাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা শীত অনুভূত হতে পারে। আর নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকে শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশের একেক অঞ্চলে আবহাওয়ার অনুভূতি একেক রকম হতে পারে। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও সকাল ও রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হালকা শীতের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রভাব আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে এল নিনোর প্রভাবের কারণে এবারের শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত চার থেকে পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলে দিনের তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শেষ ভাগ থেকে নভেম্বরজুড়ে আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরেই শীতের মূল প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে প্রকৃত তাপমাত্রা ও শীতের তীব্রতা নির্ভর করবে ওই সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।

