বাড়ি কিংবা গাড়ি নয়, চীনের এক নারী বিনিয়োগ করেছেন পার্কিং স্পেসের ব্যবসায়। একটি আবাসিক এলাকায় একসঙ্গে ১৯৬টি পার্কিং স্পেস কিনে কয়েক বছরের মধ্যে বড় মুনাফার মুখ দেখেছেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন ও পার্কিংয়ের চাহিদা বাড়ার পর ভাড়া দ্বিগুণ করার পাশাপাশি জায়গাগুলো আগের দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্যোগও নেন। এতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় গেছে ওই নারীর পক্ষেই।

ঘটনাটি চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আবাসিক এলাকার। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আবাসন প্রকল্পটি চালুর সময় সেখানে দোকানপাট, স্কুল ও গণপরিবহনের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা পর্যাপ্ত ছিল না। এ কারণে প্রকল্পটির অ্যাপার্টমেন্ট ও পার্কিং স্পেস কেনার ব্যাপারে অনেকের আগ্রহ কম ছিল।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে বিনিয়োগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উ পদবির ওই নারী স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে এলাকাটিতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পান। আর্থিক সংকটে থাকা আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান ব্যয়ে মোট ১৯৯টি পার্কিং স্পেসের মধ্যে ১৯৬টি কিনে নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী কয়েক বছরে আবাসিক এলাকাটির উন্নয়ন ঘটলে পার্কিংয়ের চাহিদাও বাড়তে থাকে। অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের মধ্যে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে উ নিজের কেনা পার্কিং স্পেসগুলো ভাড়া দেওয়া শুরু করেন।

ভাড়া দ্বিগুণ, বিক্রির দামও বাড়তি

চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর প্রতি মাসে একটি পার্কিং স্পেসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৭৫ ডলার, যা প্রতিবেদনে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভাড়া ২০১৮ সালে নির্ধারিত হারের প্রায় দ্বিগুণ।

এ ছাড়া পার্কিংয়ের জায়গাগুলো মূল ক্রয়মূল্যের তুলনায় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রির প্রস্তাবও দেন তিনি। পার্কিংয়ের সংকটে থাকা বাসিন্দাদের একাংশের কাছে বিষয়টি বাড়তি আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা দেয়।

বাসিন্দাদের মামলা, আদালতে জয় বিনিয়োগকারীর

পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় বাসিন্দারা নির্ধারিত দামে জায়গাগুলো ভাড়া দেওয়া বা বিক্রির দাবি জানান। মধ্যস্থতার উদ্যোগে সমাধান না হওয়ায় তাঁরা সম্মিলিতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাসিন্দাদের বক্তব্য ছিল, আবাসিক এলাকার পার্কিং সুবিধা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই একজন ব্যক্তির হাতে অধিকাংশ জায়গা কেন্দ্রীভূত থাকলে অন্যদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।

তবে শুনানি শেষে আদালত উ-এর পক্ষেই রায় দেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পার্কিং স্পেসগুলো বিক্রির সময় অন্য বাসিন্দাদেরও কেনার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাঁরা তখন সেগুলো কেনেননি। অন্যদিকে উ আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের সংশ্লিষ্ট আইনে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি পার্কিং স্পেসের মালিক হতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁর কেনাকাটাকে অবৈধ বলে গণ্য করা হয়নি।

ঘটনাটি আবাসন খাতে বিনিয়োগ, সম্পত্তির মালিকানা এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে পার্কিংয়ের সংকটে বাসিন্দাদের ভোগান্তি—দুই দিকই এ ঘটনায় সামনে এসেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version