ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে তাঁকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভস্থলে গেলে তাঁকে আবার আটক করা হতে পারে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৩টার দিকে ধ্রুব রাঠিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, মুক্তির পর তাঁকে বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দিল্লিতে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এখনো আটক সিজেপির তিন নেতা
এদিকে সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস তখনো মুক্তি পাননি বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাঁদের মুক্তির বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দলটি দাবি করে, ওই তিন নেতা প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আটক রয়েছেন। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানায় সিজেপি।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়াকড়ি
ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়। কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু মেট্রো স্টেশন ও বাজারও বন্ধ ছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিজেপি, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা পরিমার্জনের উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণ, প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
