পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ১০ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিধায়কেরা সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের জেরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত পৃথক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিধায়ক পদ বহাল রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৃণমূলের বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিধানসভায় এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ১০ বিধায়ক ও তাঁদের আইনজীবী অংশ নেন। তাঁরা আবেদনের আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সদস্যপদ বাতিলের আবেদন যথাযথ আইনি বিধান অনুসরণ করে করা হয়নি এবং আবেদনে উল্লেখ করা আইনের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

শুনানি শেষে স্পিকার আবেদনটি খারিজ করে দেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথ আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে এই আবেদনের ভিত্তিতে আপাতত সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হওয়ার পর দলটির অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরি হয়। দলের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কয়েকজন বিধায়ক পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নেন। তবে নির্বাচনের ফলাফল, বিধায়কদের দলবদল এবং পৃথক গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো বিধায়কের সদস্যপদ বাতিল হবে কি না, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, সংশ্লিষ্ট ঘটনার তথ্য এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। তাই কোনো আবেদন খারিজ হওয়া মানেই ভবিষ্যতে একই বিষয়ে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, এমন নয়।

মূল প্রতিবেদনে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, আকতারুজ্জামান ও বিপ্লব মিত্রের নামও সংশ্লিষ্ট ১০ বিধায়কের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের দুই অংশের পৃথক নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আনুষ্ঠানিক নথি যাচাই করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, আবেদন খারিজের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সদস্যপদ নিয়ে ভবিষ্যতে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version