বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. আনিছুর রহমান (আনিছ) জানান, মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিষয়ে শুনানি থাকায় নির্ধারিত দিনে তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে ওই এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ২০ জন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

পলাতক আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টুর নামও রয়েছে পলাতক আসামিদের তালিকায়।

অন্যদিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার আরও ১০ আসামি জামিনে আছেন।

এখন আগামী ২৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version