প্রায় দুই বছর পর কবর থেকে চাঁদপুরের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার (৭ অক্টোবর) মরদেহ দুটি কবর থেকে বের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুসারে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেলিম খান। তিনি ‘শাপলা মিডিয়া’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।
তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন এবং অভিনয়ের কারণে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
সেলিম খানকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগও সামনে এসেছে। চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ছিল। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানা যায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জনতার পিটুনিতে তাঁদের মৃত্যু হয়।
ঘটনাটির পর চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই আদালত মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার পর প্রায় দুই বছর পর বুধবার তাঁদের মরদেহ উত্তোলন করা হলো। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে মামলার তদন্তে তা যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

