সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। ঢাকার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদে এবার লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি শুধু সাধারণ অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যথাযথ তথ্য ছাড়া কাউকে হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। একইভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো কর্মকর্তাকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। একদিনে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের জন্য একটি জায়গা থেকে কাজ শুরু করা জরুরি। লটারির মাধ্যমে বদলির এই উদ্যোগকে সেই পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দায়িত্ব পাওয়া অনেকের কাছেই বিশেষ আকর্ষণীয় পোস্টিং হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি ঢাকার পোস্টিংকে অনেক সময় ‘প্রাইস পোস্টিং’ হিসেবেও দেখা হয়। সাধারণ ধারণা রয়েছে, ঢাকায় পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তারাই তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকেন। এবার সেই কাঙ্ক্ষিত পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রেই লটারির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্যেই লটারির পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে বদলি প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত পছন্দ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার জন্য লটারিতে মোট ১৮ জন সাবরেজিস্ট্রার নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের পরবর্তী পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের কাজের চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করলেই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে হলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া দুর্নীতির পরিবেশ ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তার মতে, লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলির উদ্যোগ সেই বৃহত্তর সংস্কার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
এদিকে, সারা দেশে সাবরেজিস্ট্রারের মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। ফলে বিদ্যমান জনবল সংকটের পাশাপাশি বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে সাবরেজিস্ট্রারদের বদলিতে লটারি চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বদলি প্রক্রিয়ায় নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত হলো। এখন এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে এবং দুর্নীতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই নজরে থাকবে।
