নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিয়ে ফেরার সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ডের কাছের যুগিপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় একই দিন দুপুরে বন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীর উদ্দেশে যাওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দর এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ওই এলাকা অতিক্রম করার পর তারা সেখান থেকে ফিরছিলেন।

তাদের দাবি, সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ডের পাশের যুগিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের নির্দেশনায় তার ছেলে মাহমুদুল রহমান শুভের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এ সময় অন্তর, প্রান্ত, মনির মেম্বার, মজিবর রহমান, আবুল কালাম, কাজী পনির, রিপন, ফারুক ও ইকবালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লোহার রড, এসএস পাইপ ও কাঠের লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মামলায় নাম থাকা মাকসুদ আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি এবং মনির মেম্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাকসুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে মনির মেম্বারের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাদের পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায়। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version