সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তার ফিরে আসা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নিজের মত জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী ফজলুর রহমান।
তার মতে, দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। এ ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের সমর্থন বা সহযোগিতা ছাড়া শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না—এটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয়। বরং তার ফেরার ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা কী হয়, সেটিই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যদি শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো ধরনের সমর্থন তৈরি হয়, তাহলে দেশে ফেরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আবার এমন কোনো সহযোগিতা না থাকলে বর্তমান বাস্তবতায় তার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি পর্যায়ে কোনো সমঝোতা তৈরি হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তার মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ দেখা দিতে পারে। তবে বাস্তবে এমন কোনো উদ্যোগ হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন ধারণার সঙ্গেও একমত নন ফজলুর রহমান। তার মতে, একজন নেতার দেশে ফিরে আসার বিষয়টির সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ অবস্থানকে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না।
তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তার প্রশ্ন, এসব নেতা যদি দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে আবার ভোট চান, তাহলে জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ফজলুর রহমানের মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও নানা বক্তব্য এসেছে। তবে তার প্রকৃত প্রত্যাবর্তনের সময় বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়।
