দেশের চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মিয়ানমার এবং এর কাছাকাছি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই সময় দেশের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।
টানা ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের নিচু জায়গাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে পাহাড়ের ঢাল বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষের জন্য পরিস্থিতি সতর্কতার দাবি রাখে। অতিবৃষ্টির সময় পাহাড়ি এলাকায় চলাচল এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য ভূমিধসের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখাও জরুরি।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে শুধু পাহাড়ি এলাকাই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য স্থানেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে স্থানীয়ভাবে পানি জমে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সব মিলিয়ে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের আগামী দুই দিন বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে থাকা মানুষদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

