ঢাকার নিম্ন আদালতের মালখানায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কনস্টেবল মো. রেজাউল করিমকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তার কাছ থেকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আবেদন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের মালখানায় জব্দ করা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ধ্বংসের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। সেখানে দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব ইয়াবা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেগুলো কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম ঢাকা মহানগর পুলিশের কোর্ট প্রসিকিউশন বিভাগের মালখানার আলামত নিষ্পত্তি শাখায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে রোববার রাতে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের ওয়াল্টার রোড এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ বিরানি ঘর’ থেকে তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩-এর সিপিএসসি-২, মগবাজার ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে, ওয়াল্টার রোডের ওই খাবারের দোকানে একজন ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে র্যাবের দল সেখানে অভিযান চালালে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে আটক করা হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি করে পরনের প্যান্টের সামনের ডান পকেট থেকে নীল ও কমলা রঙের ১ হাজার ৭৯০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের মোট ওজন ১৭৯ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ভিভো ব্র্যান্ডের একটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে জব্দ করা আলামতসহ রেজাউল করিমকে সূত্রাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই সুমন কুমার চ্যাটার্জী আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, কার কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো রাখা হয়েছিল এবং এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ে তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।