চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফরের পর দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বৈঠকটিকে অত্যন্ত সফল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে অগ্রগতি হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের দেশ জয়ী হচ্ছে।’
শি জিনপিংয়ের সফরের সময় দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশ কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বৈঠনে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক বিষয়ই নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও উঠে আসে। রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের নেতারা মতবিনিময় করেন। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়েও দুই দেশের অবস্থান আলোচনায় আসে। কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আরোপের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়—এমন বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল উদীয়মান প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একটি Super Intelligence Dialogue চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশ মতবিনিময় করবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিশ্বের তিনটি বড় শক্তির মধ্যে কৌশলগত অস্ত্র ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার একটি নতুন কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে দুই নেতার মধ্যে হওয়া বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রীয় সফরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে নতুন সরকারি কাঠামো সক্রিয় করার পাশাপাশি কিছু পণ্যের শুল্ক ও বাজার-প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার বিষয়ে অগ্রগতি করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থার ঘাটতি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
ফলে শি জিনপিংয়ের সফর শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের মন্তব্য এবং হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বৈশ্বিক ও দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে সহযোগিতার ক্ষেত্রও খুঁজছে। সামনে এই সমঝোতাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

