পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩৫ জন। বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের বড় একটি অংশ নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ পথচারী। নিহতদের মধ্যে দুই নারী এবং একটি শিশুও রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার একটি সড়কের পাশে থাকা পুলিশ চেকপোস্টে হামলাটি ঘটে। বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর আহতদের উদ্ধারে জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের একটি অ্যাম্বুলেন্স আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বন্দুকধারীদের গুলির মুখে পড়ে।
প্রাদেশিক জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফাইজীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সটি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে একজন উদ্ধারকর্মী নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।

স্থানীয় পুলিশপ্রধান সফদার বালোচ জানিয়েছেন, আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিরাপত্তাকর্মী ও পথচারীদের অনেকে হতাহত হয়েছেন। শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে পুলিশ চেকপোস্টটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের আশপাশে গুলির শব্দও শোনা যায়। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চালায়।
এদিকে হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি। সংগঠনটি পাকিস্তানি তালেবান নামেও পরিচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এসব হামলার অনেকগুলোর দায় টিটিপি এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ স্বীকার করেছে।
টিটিপি আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের অংশ নয় এবং এটি একটি পৃথক সংগঠন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে টিটিপির সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে কাবুল যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আফগান কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বেসামরিক নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার নিন্দা জানান এবং টিটিপির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর মাত্র দুই দিন আগে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান সরকার। আফগানিস্তানে সন্দেহভাজন জঙ্গি অবস্থানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার পর সীমান্তে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।