অনলাইনে বক্তব্য বা হুমকি দিয়ে নয়, সরাসরি দেশের মাটিতে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যারা অনলাইনে হুংকার দিচ্ছেন, সাহস থাকলে এখনই বাংলাদেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের রেলওয়ে স্টেশন বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, দেশের মাটিতে এসে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার মতো সাহস থাকতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
অতীতে ক্ষমতায় থাকা বিভিন্ন সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের উন্নয়নের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। তার দাবি, রাজধানীতে বিভিন্ন সেতু ও ওভারপাস নির্মাণের মতো প্রকল্পে বিপুল অর্থের অনিয়ম হয়েছে এবং জনগণের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়েও তিনি জোর দেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে আদালতের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। অনুষ্ঠানে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, ইয়াসের খান চৌধুরীর একই ধরনের বক্তব্য নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জে বিএনপির একটি সমাবেশের খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।