ইয়েমেনের হুতিদের হামলার আশঙ্কা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মিসর। কায়রোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখে এবং এ কারণে রিয়াদের পাশে থাকবে মিসর।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি দেশটির এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুতিদের পক্ষ থেকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে মিসরের অবস্থান স্পষ্ট করেন আবদেলাত্তি।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের নিরাপত্তার সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে বিষয়টি শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—এর প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।

সাক্ষাৎকারে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও মিসরের অবস্থান তুলে ধরেন আবদেলাত্তি। গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে কায়রো।

একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র হস্তান্তর সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গোষ্ঠীগুলোর নেওয়া দায়িত্বশীল অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং তার প্রশংসা করা প্রয়োজন।

তবে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে মিসর। আবদেলাত্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ কায়রোর কাছে একটি ‘লাল রেখা’ এবং এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।

ফলে একদিকে হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে মিসর, অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে কায়রো।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে মিসরের এই বক্তব্য আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version