জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ লেনদেনের অনিয়মের অভিযোগে সাবেক সাত সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুমোদন পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের হাজী রহম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন রয়েছেন।
মামলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট সাবেক এমপিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, ভাই ও সন্তানদেরও আসামি করার কথা জানিয়েছে দুদক। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আয় ও সম্পদের ঘোষণায় অসঙ্গতি, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এসব অভিযোগ এখন আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্ত ও মামলার মাধ্যমে যাচাই হবে।
এ ছাড়া মামলার তালিকায় বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার এবং খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের নামও রয়েছে। তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে।
এর মধ্যে সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে তথ্য কম দেখানো এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ রাখার অভিযোগ রয়েছে। আবদুর রউফ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগে পৃথক মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আবু জাহিরের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগের কথা জানিয়েছে দুদক।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামী নঈম নিজামের বিরুদ্ধেও সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব মামলা অনুমোদনের পাশাপাশি পৃথক কিছু মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
