চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর নাফিজ নামে ১১ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নবদম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আগের সংসারে সন্তান না থাকায় প্রায় এক মাস আগে বিয়ে করা ওই দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে লালন-পালনের উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিলেন।

উদ্ধার হওয়া শিশু নাফিজ শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘি গ্রামের ভ্যানচালক রুবেল হোসেন (২৮) ও নিপা খাতুন (২৫) দম্পতির ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন একই এলাকার মো. মানিকুজ্জামান (৩২) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুজিয়ারা বেগম (৩৫)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১১টার দিকে নাফিজকে শয়নকক্ষে রেখে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তার মা নিপা খাতুন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঘরে ফিরে শিশুটিকে দেখতে পাননি। বিষয়টি স্বামী রুবেল হোসেনকে জানালে দুজন মিলে শিশুটির খোঁজ শুরু করেন।

পরে তারা জানতে পারেন, পরিবারের ১১ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী সদস্য শিরিন খাতুন শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে হাজারবিঘি বাজারের দিকে কেক কিনতে যাচ্ছিল। পথে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত নারী শিরিনের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে চলে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়।

শিশুটির সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরদিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে শিবগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রথমে সুজিয়ারা বেগমকে আটক করা হয়। তিনি শিশুটির পরিবারের প্রতিবেশী ও আত্মীয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুজিয়ারা শিশুটিকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাফিজকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেই সুজিয়ারার স্বামী মানিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আগের সংসারে সন্তান না থাকায় মানিকুজ্জামান ও সুজিয়ারা প্রায় এক মাস আগে বিয়ে করেন। নিজেদের কাছে শিশুটিকে রেখে বড় করার উদ্দেশ্যেই তারা তাকে অপহরণ করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সৌরভ কুমার দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version