কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং অন্তত একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে তাদের বয়স নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রোববার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতও পাওয়া গেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারিক কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বের হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর রোববার আরও একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version