বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে গুলি করে হত্যার পর তাদের মরদেহ সিমেন্টের বস্তা বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের মে মাসে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের উপস্থিতি ও নির্দেশে র্যাব-৮-এর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ওই চারজনকে হত্যা করেন।
মেজর সাব্বিরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাথরঘাটার চরদুয়ানি এলাকার বলেশ্বর নদীতে একটি ফিশিং ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মুখ ও শরীর ঢাকা ছিল। পরে তাদের চোখ বেঁধে গুলি করা হয়। এরপর মরদেহের পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।
সাক্ষ্যে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১০ সালে একই ধরনের পদ্ধতিতে আরও একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশনের’ সঙ্গে যুক্ত ট্রলারমাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়েছিল বলে মেজর সাব্বির সাক্ষ্য দেন।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান গুমের মামলায় এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এবং ওই ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদর্শী সেনা ও র্যাব কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে এগোবে। গত ১৬ বছরের মধ্যে গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এই মামলাটি বিচার শেষ হওয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেজর সাব্বিরের সাক্ষ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদীতে নিয়ে যাওয়ার পর গুলি করে এবং মরদেহে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

