বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। প্রতিবছরই মশাবাহিত এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। এর মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভারতের দেশীয় টিকা তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আশার কথা জানিয়েছে দেশটির চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
আইসিএমআর-এর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া প্রত্যাশামতো এগোলে ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই ভারতে এই টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশীয়ভাবে তৈরি ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইতোমধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তবে ঠিক কবে সাধারণ মানুষ টিকাটি নিতে পারবেন, সেটি নির্ভর করবে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
কোন পর্যায়ে রয়েছে টিকা তৈরির কাজ?
ভারতে নিজস্ব ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। আইসিএমআর-এর সহযোগিতায় দেশটির ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যানাসিয়া বায়োটেক ‘ডেঙ্গিঅল’ নামে একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরি করছে।
ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয় ২০২৪ সালে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ১০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে এই গবেষণার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
ট্রায়ালের মাধ্যমে মূলত টিকাটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর, এটি মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ এবং পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম কি না—এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
চার ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। ফলে একটি টিকা কার্যকর হতে হলে চার ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধেই পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি শরীরে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কবে সাধারণ মানুষের জন্য পাওয়া যেতে পারে?
আইসিএমআর-এর পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগের সময়কে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনই টিকাটি বাজারে আসার সময় নিশ্চিত করে বলা হচ্ছে না।
প্রথমে তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য ও ফলাফল বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর টিকাটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিতে হবে।
সব পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে ২০২৭ সালের ডেঙ্গু মৌসুমের আগেই সাধারণ মানুষের জন্য ভারতের তৈরি এই টিকা বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হতে প

