স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে সম্ভাব্য সময়সূচির কথা জানিয়েছে, সেটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ইসির সম্ভাব্য সূচি নিয়ে গণমাধ্যমে কিছু তথ্য ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে রাজধানীর বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজের কারণে সৃষ্ট যানজট কমানো নিয়ে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করে। আর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইসির দেওয়া সম্ভাব্য সময়সূচি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো চূড়ান্ত তারিখ নয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে এসেছে যেন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে, বাস্তবে তা নয়।

তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। ওই সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের তফসিল প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন। তাই ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

মেগা প্রকল্পের কাজ নিয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ

রাজধানীর চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যানজট ও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একই সড়ক বা এলাকায় একটি সংস্থা কাজ শেষ করার পর আরেকটি সংস্থা যেন আবার খোঁড়াখুঁড়ি শুরু না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়নকাজগুলো পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করে পরিচালনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি বর্ষাকালে অপ্রয়োজনীয় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এড়িয়ে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে প্রায় ১৫ দিন পর আবারও সমন্বয় সভা করার কথা রয়েছে।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলটির কিছু সমর্থক বিভিন্ন সময়ে ছোট পরিসরে মিছিল করে তা ভিডিও করে প্রচার করছে।

গুলশানে সাম্প্রতিক একটি মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে সেখানে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই দিন পুলিশ আগে থেকে ধারণা করতে পারেনি যে জুমার নামাজের জন্য লোকজন জড়ো হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে পরবর্তীতে ঘটনাটি সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাই এটিকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

হাইকোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। তবে ঘটনাটিকে বড় ধরনের কোনো বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ভুক্তভোগী মানুষ ওই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে সরকার মনে করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালত স্বাধীন এবং আদালতের দেওয়া রায়ের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version