শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারগুলোর হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন এবং তাঁদের পাশে সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং স্বজন হারানোর ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেনাসদস্যরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
শোকাহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দেখভালের দায়িত্বও সরকার যথাযথভাবে পালন করবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের স্থায়ী ঠিকানায় পরিবারের জন্য পৃথক বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শহীদদের স্ত্রীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং চলাকালে গোলা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই সেনাসদস্য শহীদ হন। তাঁরা হলেন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি, শিশু কন্যা ফাতেমা সিদ্দিকা, বাবা আব্দুল ওহাব ও মা পারভীন আক্তার।
অন্যদিকে, শহীদ মো. তাসনিম রিফায়াতের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী মোসা. ফাহমিদা আফরিন, শিশু কন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা এবং বাবা মো. আসাদুল হক।
সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন সহায়তার উদ্যোগে শহীদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
