ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন, যা বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে তাদের প্রভাব আরও জোরদার করতে পারে।
মোখা শহরটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট বাব আল-মান্দাব প্রণালির খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এটি বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সামরিক কৌশলের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শহরটির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় লোহিত সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
গবেষক ও বিশ্লেষকদের মতে, মোখার দখল হুথিদের সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েক দিনের টানা সংঘর্ষের পর হুথি যোদ্ধারা শহর ও এর বন্দর এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে অঞ্চলটি ইয়েমেন সরকারের সমর্থিত বাহিনীর অধীনে ছিল। সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে সরকারি বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকেই দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চলছে। পরবর্তীতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারপক্ষকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে সেই স্থিতিশীলতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মোখা দখলের পর হুথিরা বাব আল-মান্দাবের আরও কাছাকাছি কৌশলগত এলাকা ও দ্বীপগুলোর দিকে নজর দিতে পারে। এমনটি ঘটলে লোহিত সাগর ও আরব সাগরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
তবে হুথি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই এবং তারা ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের দিকেই মনোযোগী। অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের মিত্র বাহিনী পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোখাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন ইয়েমেন সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের ওপরও এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
