আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় দফায় লং মার্চ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই কর্মসূচির কথা জানান।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তার অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত এসেছে, সরকার সেটিকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
সংসদে বিভিন্ন বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে যেসব মতামত দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশই সরকার বিবেচনায় নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে কোনো বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা বাস্তবায়ন না করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ১৯৭১ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে জনগণের নির্বাচনী রায় মেনে না নেওয়ার কারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতেও জনগণের ভোটের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হলে তারা বিষয়টি মেনে নেবেন না বলে সতর্ক করেন তিনি।
দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার মতে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারই সহজে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করার সুযোগ পাবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না নিলেও জনগণের দেওয়া রায় থেকে তারা সরে যাবেন না। সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ভুল বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের পরিবর্তে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি গঠনের বিষয়টিও সমালোচনার মুখে পড়েছে তার বক্তব্যে।
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, অতীতে র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকায় তারা বাহিনীটির বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন নামে বাহিনী গঠন করলেও পুরোনো কাঠামো, সদস্য এবং কার্যক্রমের বড় অংশ বহাল রাখার কারণে পরিবর্তনটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে সম্পদ বণ্টন সংক্রান্ত আইন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াত আমির। তার দাবি, ইসলামী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন প্রণয়ন করা উচিত নয়। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে জনগণের ভোটের রায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে ঘোষিত দ্বিতীয় লং মার্চ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং এতে কী ধরনের জনসম্পৃক্ততা দেখা যায়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
