ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধ বা ইনসুলিনের ওপর নির্ভর করলেই যথেষ্ট নয়। অনেক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রতিদিন শরীরচর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যক্রম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে সক্রিয় জীবনযাপন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন
খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও কম চর্বিযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফলমূল এবং শস্যজাতীয় খাবার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়, তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনার জন্য চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
৪. মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ধ্যান, যোগব্যায়াম কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের ঘাটতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
৬. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে তুললে দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
